পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার নয়নামতি এলাকায় একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, রুপার গহনা এবং পূর্বপুরুষদের আমলের প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো তিনটি পিতলের মূর্তিসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শারদীয় দুর্গাপূজার আগে একটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের বাড়িতে এমন চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী চন্দন চক্রবর্তী এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য প্রায় এক মাস আগে তিনি নয়নামতি এলাকার নিজের বসতবাড়িতে তালা লাগিয়ে ঢাকায় যান। গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি বাড়িতে ফিরে মূল ফটকের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের পেছনের পূর্ব পাশের টিনের বেড়া কাটা দেখতে পান। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখেন, দুটি আলমারি ও একটি ট্রাঙ্ক ভাঙা এবং জিনিসপত্র এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা চোরেরা রাতের কোনো একসময় টিনের বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করে নগদ দুই লাখ টাকা, প্রায় ৩ ভরি ৪ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ২৬ ভরি রুপার গহনা চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে গলার চেইন, কানের দুল, আংটি, নাকফুল ও টিপ। রুপার গহনার মধ্যে নূপুর, বিছা, সিতাহার, চুড়িসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে।

এ ছাড়া পরিবারের পূর্বপুরুষদের আমলের বলে দাবি করা কৃষ্ণমূর্তি, রাধাকৃষ্ণ মূর্তি ও গোপাল মূর্তিসহ তিনটি পিতলের মূর্তি চুরি হয়েছে। মূর্তিগুলোর কানে মোট ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল পরানো ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। চোরেরা পিতলের ডেক-পাতিল, কাঁসার থালাসহ বিভিন্ন মূল্যবান বাসনও নিয়ে গেছে।

চিকিৎসার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকা অবস্থায় এমন চুরির ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন চন্দন চক্রবর্তী ও তাঁর স্বজনেরা। বিশেষ করে পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বলে দাবি করা মূর্তিগুলো হারিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে এবং চুরি হওয়া টাকা, স্বর্ণালংকার ও প্রাচীন মূর্তিসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।