চাটমোহর থেকে নতুন অনলাইন পোর্টাল ‘দর্পণ নিউজ’ যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

এ নিউজ পোর্টাল নিয়ে আমি দুটি কারণে আশাবাদী।

এক. ২০১৫ সালে ফেসবুক গ্রুপ ‘চাটমোহর দর্পণ’ যাত্রা শুরুর পর, সময়ের সাথে নিউজ কনটেন্ট নির্ভর ‘দর্পণ টিভি’ এবং বর্তমানে সে উদ্যোগ ‘দর্পণ নিউজ’ নামে আত্মপ্রকাশ করছে।

সময়ের সাথে সাথে এই যে পথ তৈরী করা এটা চমৎকার। এই চমৎকার কাজটি যার হাত দিয়ে হয়েছে, সঞ্জিত চক্রবর্তী সোনাকে অভিনন্দন জানাই।

লক্ষণীয়, ‘চাটমোহর দর্পণ’ গ্রুপটি জনপ্রিয় হয়েছিলো। পরের উদ্যোগ ‘দর্পণ টিভি’ সেটাও মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।

দর্পণ ঘরানার এই অতীত সফলতা, ‘দর্পণ নিউজ’-এর বিষয়ে আমাকে আশাবাদী করে।

দুই. চাটমোহরের সাংবাদিকদের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে পরিশ্রমী নামটা শাহীন রহমান। অনেকেই যখন অন্য পেশার অতিরিক্ত হিসাবে সাংবাদিকতাকে বানিয়েছেন সন্মানের পালক। তখন চাটমোহরের সাংবাদিকতায় শাহীন রহমানকে একদম ছোট পর্যায় থেকে সংবাদের জন্য ছুটে, শ্রম আর নিবেদনে শুধুমাত্র সাংবাদিকই হয়েছেন। বাংলাদেশে মফস্বল শহর থেকে এমন নিবেদনে ফুলটাইম সাংবাদিক কমই পাওয়া যাবে। সাংবাদিকতায় কয়েক দশকের শ্রমে, ঘামে ঋদ্ধ সেই শাহীন রহমান যখন সম্পাদকের দায়িত্ব নেন, সেটাও আমাকে ভালো কিছুর বিষয়ে আশাবাদী করে।

এবার দর্পণ নিউজের কথায় আসি- দর্পণে আমরা কী দেখি?

দর্পণে আমরা প্রতিবিম্ব দেখি। সম্ভবত দর্পণ নিউজের স্লোগানও ‘এই সময়ের প্রতিবিম্ব’।

সাধারণত, সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ ও মতামত থাকে। বাংলা সাহিত্যে সংবাদ ও মতামত পাওয়ার মাধ্যম হিসাবে আমরা দর্পণ বা আয়নাকে দেখেছি।

এদেশের বিখ্যাত লোকসাহিত্য নির্ভর সিনেমা ‘সাত ভাই চম্পা’য় রাজকন্যা বড় হয়েছে মালিনীর ঘরে। সওদাগরপুত্র তাকে উপহার দিয়েছে আজব এক আয়না, যে আয়নায় দূরে থাকলেও আপন মানুষদের দেখা যায়। সে আয়নাতেই রাজকন্যা পারুল দেখলো তার মা পাগলিনীর বেশে বনে বনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

অর্থ্যাৎ দর্পণ বা আয়না পারুলকে সংবাদ দিলো তার মা কে এবং সে এখন কোথায় আছে।

আবার রবীন্দ্রনাথের সোনারতরী কাব্যগ্রন্থের বিম্ববতী কবিতায়- রানী বারেবারে মায়াদর্পণের কাছে জানতে চায়- এ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর কে?

আসলে রানী আয়নার কাছে মতামত চায়- আয়না বলুক সেই সবচেয়ে সুন্দরী।

কিন্তু আয়না বারবার মতামত দেয়-

“রাজকন্যা বিম্ববতী সতিনের মেয়ে,

ধরাতলে রুপসী সে সবাকার চেয়ে।”

অর্থ্যাৎ, দর্পণের মাধ্যমে সংবাদ ও মতামত পাওয়ার দুটি চমৎকার উদাহরণ আমরা বাংলা সাহিত্য থেকে পেলাম।

আমি আশা করছি, দর্পণ নিউজের মাধ্যমেও সংবাদ ও মতামত সাহিত্যের মতো করে পাঠক পাবে।

সাহিত্যের মত করে পাওয়া মানে কি?

খেয়াল করুণ, সকলে জানে পারুল মালিনীর মেয়ে। আয়না কিন্তু পারুলের মা হিসাবে মালিনীকে দেখাতে পারতো। কিন্তু আয়না দেখিয়েছে ঘটনার পেছনের সত্যটাকে।

আশা করছি, দর্পণ নিউজ যে সংবাদ দেবে, সেটা শুধু জনপ্রিয় সত্য হবে না, ঘটনার পেছনের সত্য হবে।

আবার মায়াদর্পণ তো বারবার বিম্ববতীকে সেরা সুন্দরী মতামত দিচ্ছিলো।

রানী যে বারবার জানতে চাইছে, কে সবচেয়ে সুন্দরী?

সমাজের দর্পণ যে সংবাদমাধ্যম, সেখানে কি ক্ষমতাবানেরা নিজের বড়ত্ব বলানোর চেষ্টা করে না? সংবাদমাধ্যম গুলো ক্ষমতাবানদেরকেই সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে মানবিক হিসাবে উপস্থাপন করে না?

আশা করছি, ক্ষমতার রানীকে সবচেয়ে সুন্দর না বলে দর্পণ নিউজ প্রকৃত মতামতটাই দেবে।

লেখক: পরিচালক, চিত্রগৃহ চাটমোহর।