পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা শহরের লষ্করপুর টার্মিনাল এলাকায় গাজী টেলিভিশনের (জিটিভি) জেলা প্রতিনিধি ও পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. নবী নেওয়াজকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাবনা জজ কোর্টে সংবাদ সংগ্রহ শেষে বাড়ি ফেরার পথে লষ্করপুর টার্মিনাল সংলগ্ন একটি গেটের পাশে রিপনের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে মো. ইবাদ শেখ ওরফে ড্রাইভার ইবাদ, মো. আমিন উদ্দিন ও শ্রী মিলন গোবিন্দ চৌধুরীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সাংবাদিক নবী নেওয়াজকে ঘিরে গালিগালাজ করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে ইবাদ শেখ তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে মাথায় কোপ দেন। এ সময় দুই হাত দিয়ে কোপ ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার হাতে আঘাত লাগে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এরপর অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে মাথার পেছন, হাত, পিঠ, বুক, মুখ, গলা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান তিনি। একপর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সাংবাদিককে পাবনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযোগে তার শার্টের পকেটে থাকা নগদ ২০০ টাকা এবং প্রায় ১ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের একটি হেডফোন নিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক নবী নেওয়াজ পাবনা শহরের টার্মিনাল এলাকার মহেন্দপুরের মৃত আবু সামা মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজী টেলিভিশনের পাবনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।

এ ঘটনায় নবী নেওয়াজ বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

পাবনা সদর থানার ওসি (অপারেশন) নাহিরুল ইসলাম বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়ন। সংগঠনটির সভাপতি খাইরুল ইসলাম বাসিদ ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম এক বিবৃতিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।