নিজের পোষা বিড়াল ফিরে পেয়ে গৃহবধূ খুশি খাতুন। বুধবার দুপুরে পাবনা সদর থানা চত্বরে। ছবি : নিজস্ব।

‎পাবনা প্রতিনিধি: প্রিয় পোষা পারসিয়ান বিড়ালটি হারিয়ে যাওয়ার পর পোস্টার তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন গৃহবধূ খুশি খাতুন (৪১)। এছাড়া হারানো বিজ্ঞপ্তির পোস্টার তৈরী করে বিভিন্ন স্থানে টাঙানো হয়। তারপর এক নারী ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনার বিড়ালটি আমার কাছে আছে। অসুস্থ হওয়ায় বিড়ালটির চিকিৎসা করানোর কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঠিকানা জানতে চাইতেই বন্ধ করে দেন মুঠোফোন।

‎এরপর থেকে বিড়ালটির সন্ধানে নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি চলছিল। শেষ পর্যন্ত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উদ্ধার করা হয়েছে হারানো সেই প্রিয় পোষা বিড়ালটি। পরে সেটি মালিক খুশি খাতুনের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

গৃহবধূ খুশি খাতুন পাবনা শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর কাবলী মওলা রোডের রেজাউল করিমের স্ত্রী।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে খুশি খাতুনের পোষা পারসিয়ান বিড়ালটি বের হয়ে যায়। এরপর আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও বিড়ালটির সন্ধান না পেয়ে এলাকায় হারানো বিজ্ঞপ্তির পোস্টার টাঙানো হয়। সেইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন তিনি।

হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচারের পর ওমা খাতুন নামে এক নারী একটি মোবাইল নম্বর থেকে খুশির মোবাইলে ফোন করেন। তিনি জানান, হারিয়ে যাওয়া বিড়ালটি তার কাছে রয়েছে। বিড়ালটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসাও করিয়েছেন বলে জানান ওই নারী।

‎তখন খুশি বিড়ালটি কোথায় রয়েছে এবং তার ঠিকানা জানতে চান। ওই নারী সঠিক ঠিকানা না দিয়ে ফোনটি বন্ধ করে দেন। পরে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ ও খোঁজাখুঁজি করেও বিড়ালটির সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন খুশি খাতুন।

‎অবশেষে পুলিশের উদ্যোগে বুধবার শহরের একটি বাড়িতে বিড়ালটির সন্ধান মেলে। পরে সেটি উদ্ধার করে মালিক খুশির কাছে বুঝিয়ে দেয় পুলিশ।

‎বিড়ালটি ফিরে পেয়ে খুশি খাতুন বলেন, অনেক দিন ধরে বিড়ালটিকে খুঁজেছি। বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর যখন জানতে পারলাম এটি একজনের কাছে আছে, তখন আশা জেগেছিল। পরে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব চিন্তায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমার বিড়ালটি ফিরে পেয়েছি এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।

খুশি খাতুনের মেয়ে সাদিয়া করিম জানান, এক বছর আগে এক আত্মীয় আমাদের পারসিয়ান বিড়ালের দুটি বাচ্চা উপহার দিয়েছিলেন। তখন থেকে আমরা লালন পালন করে আসছি। বিড়াল ছানা দুটি আমাদের খুব প্রিয় আর আপন হয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি বিড়াল গত ৩ সেপ্টেম্বর হারিয়ে যায়। হারানোর পর আমরা খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। অবশেষে বিড়ালটি খুঁজে পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত।

‎পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সাহা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কাজ শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে বিড়ালটি শহরের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।