সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি: দেশে জ্বালানি সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাগলা চণ্ডীপুরে গ্যাসের সম্ভাবনা শনাক্ত হওয়া একটি অনুসন্ধান কূপ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রশ্ন উঠেছে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে।

উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের পাগলা চণ্ডীপুর গ্রামে মোবারকপুর অনুসন্ধান কূপ প্রকল্পের আওতায় রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) গভীর অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। অনুসন্ধানের সময় ভূগর্ভের প্রায় ৪ হাজার ২৫০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতায় গ্যাসের পাঁচটি সম্ভাবনাময় স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়।

তবে কূপ খননের একপর্যায়ে কারিগরি জটিলতা ও ভূগর্ভে অতিরিক্ত চাপের কারণে নির্ধারিত গভীরতায় গিয়ে গ্যাস উত্তোলনের চূড়ান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে অনুসন্ধান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও কূপটি পুনরায় সচল করার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

গ্যাসের সম্ভাবনা শনাক্ত হওয়ার পরও কূপটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দেশে যখন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে, তখন সম্ভাবনাময় এই কূপকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা উচিত নয়।

পাগলা চণ্ডীপুরের এক বাসিন্দা বলেন, অনুসন্ধানে গ্যাসের সম্ভাবনা পাওয়া গিয়েছিল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটির সম্ভাবনা আবার যাচাই করা হলে নতুন করে গ্যাস উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জ্বালানি সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভের গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান তুলনামূলক জটিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে এ অঞ্চলে জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত পেট্রোবাংলার বিভিন্ন অনুসন্ধান কার্যক্রম এবং পরবর্তী সময়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জরিপেও এ অঞ্চলের ভূগর্ভে জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। পরে ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাপেক্সের পরিচালিত ভূকম্পন জরিপেও সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আসে।

এদিকে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা পাবনাসহ এ অঞ্চলে গ্যাসের সম্ভাবনা নতুন করে যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তায় ‘মোবারকপুর ডিপ-১’ প্রকল্পের মাধ্যমে আরও গভীর অনুসন্ধানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নতুন অনুসন্ধানের পাশাপাশি পাগলা চণ্ডীপুরের পুরোনো কূপটির সম্ভাবনাও পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে উন্নত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কূপটির বর্তমান ভূগর্ভস্থ অবস্থা যাচাই করে কাছাকাছি এলাকায় নতুন করে অনুসন্ধান চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পাগলা চণ্ডীপুরের কূপে পুনরায় অনুসন্ধান বা উত্তোলনের সম্ভাবনা নিশ্চিত হলে পাবনাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। একই সঙ্গে শিল্প-কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।

এ কারণে কূপটির বর্তমান অবস্থা দ্রুত পর্যালোচনা করে এর সম্ভাবনা পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের কার্যকর উদ্যোগের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছেন তারা।