পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা পৌর শহরের শালগাড়ীয়া এলাকার অ্যাসোর্ট হাসপাতালে ওয়ার্ড বয়ের পরিচয়ে এক প্রসূতির স্বজনকে কৌশলে নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দেওয়ায় আলেয়া খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর ছেলে আদর শেখ।

গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার একটি পরিত্যক্ত কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ১৭ অক্টোবর সকালে সুজানগর উপজেলার রাইপুর গ্রামের বাসিন্দা আদর শেখ তাঁর অন্তঃসত্ত্বা বোন মাফিয়া খাতুনকে (৩০) চিকিৎসার জন্য অ্যাসোর্ট হাসপাতালের ৩১৬ নম্বর কেবিনে ভর্তি করেন। পরদিন সন্ধ্যায় ওই কেবিনে অবস্থানকালে ফাইল হাতে এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় পরিচয় দিয়ে চিকিৎসকের কথা বলে মাফিয়া খাতুনের মা আলেয়া খাতুনকে বাইরে ডেকে নেন।

পরে কৌশলে তাঁকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার একটি পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আলেয়া খাতুনের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা, এবং প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি অপ্পো এ৫৪ মডেলের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ সময় আলেয়া খাতুন বাধা দিলে ওই ব্যক্তি তাঁকে লোহার রড দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তাঁর চিৎকার শুনে হাসপাতালের অন্য রোগী ও স্বজনেরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

আদর শেখ জানান, তাঁর মা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, অ্যাসোর্ট হাসপাতালের ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।