স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা: পাবনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক অভিযানে এক মাদক কারবারি ও পাঁচ মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৫ লিটার চোলাই মদ এবং ৩০০ লিটার জাওয়া (ওয়াশ) উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (৬ জুলাই) জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসি পাবনা জেলা কার্যালয়ের সদর ও ঈশ্বরদী সার্কেল টিম।

ডিএনসি সূত্র জানায়, উপ-পরিদর্শক মো. জামালুর রহমানের নেতৃত্বে সদর সার্কেল টিম পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নিয়ামতুল্লাহপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মৃত মুরাদ প্রামানিকের ছেলে মো. আন্টু প্রামানিককে (৪৮) তার নিজ বাড়ি থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে।

অন্যদিকে উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শের আলমের নেতৃত্বে ঈশ্বরদী সার্কেল টিম চাটমোহর উপজেলার রায়নগর ও বাঘলবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পলাতক মো. সাদ্দামের (৩০) বাড়ি থেকে ৫ লিটার চোলাই মদ এবং পলাতক টুম্পা কর্মকারের (৪২) বাড়ি থেকে ৩০০ লিটার জাওয়া (ওয়াশ) উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় ওই দুই অভিযুক্তকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মো. জামালুর রহমান ও মোহাম্মদ শের আলম বাদী হয়ে পাবনা সদর ও চাটমোহর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পাবনা সদর উপজেলার দিলালপুর ও রাধানগর এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে পাঁচ মাদকসেবীকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন, আটুয়া গ্রামের মো. আলো শেখ (৫০), কিসমতপ্রতাবপুর গ্রামের মো. আব্দুর রহমান (৪০), বোবরাখালী গ্রামের মো. নুর ইসলাম (৫৫), রাধানগর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং আটুয়া গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪০)।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডিএনসি পাবনার পরিদর্শক তারেক মাহমুদ, উপ-পরিদর্শক মো. জামালুর রহমান ও উপ-পরিদর্শক সোহান ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন উপস্থাপন করেন। পরে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জুলাই ২০২৬ মাসে এ পর্যন্ত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে মোট ২০ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।