মেহেদী হাসান (ভাঙ্গুড়া): এক হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে সংসারের হাল। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চা বিক্রি করে যে সামান্য আয়, তা দিয়েই চলে সংসার। সীমাহীন অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ গ্রামের চা বিক্রেতা বিপ্লব বসাক। তাঁর অদম্য চেষ্টা ও দুই সন্তানের মেধায় দেশের দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ মিলেছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই দরিদ্র বাবা।

বিপ্লব বসাকের ছেলে প্রদুৎ বসাকী ইমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে এবং মেয়ে বন্যা বসাকী মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগে পড়াশোনা করছেন।

দারিদ্র্যকে জয় করে দুই সন্তানের এমন সাফল্যে পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে গভীর দুশ্চিন্তা। সংসারের দৈনন্দিন খরচের সঙ্গে দুই সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন, বই-খাতা ও একাডেমিক খরচ, থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিপ্লব বসাক। চা বিক্রি থেকে পাওয়া সীমিত আয় দিয়ে সবকিছু সামাল দেওয়া তাঁর জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে আসছেন বিপ্লব। নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতা কখনো সন্তানদের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি। কিন্তু বর্তমানে দুই সন্তানই দেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায় তাঁদের শিক্ষাজীবনের ব্যয় বহন করা তাঁর একার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও প্রদুৎ ও বন্যার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। অর্থের অভাবে যাতে তাঁদের পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়, সেজন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, “অবহেলিত ও দরিদ্র পরিবার থেকে দুই সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া পুরো ভাঙ্গুড়া উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই অদম্য মেধাবীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”

পরিবারটির প্রত্যাশা, অর্থ যেন প্রদুৎ ও বন্যার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে দুই মেধাবী শিক্ষার্থী তাঁদের পড়াশোনা শেষ করে ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য নিজেদের মেধা কাজে লাগাতে পারবেন।