ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: “যদি দুনিয়ায় না থাকি, আমার কবরের কাছে একটু যেয়ো…”। মৃত্যুর আগে বলা এই কথাগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের কষ্ট, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভিডিওবার্তা রেখে আত্মহত্যা করেছেন পাবনার ঈশ্বরদীর এক গৃহবধূ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেঘনা খাতুন (২১)। এর আগে রোববার (২ আগস্ট) নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
মেঘনা ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামের শফি মণ্ডলের ছেলে আজম আলী মণ্ডলের স্ত্রী। তাদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। মেঘনার বাবার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর মোটর মেকানিক আজম আলীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভালোবাসার সম্পর্ক দিয়ে শুরু হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সংসারে নেমে আসে অশান্তি। পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ ও নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যেই একসময় চরম সিদ্ধান্ত নেন মেঘনা।
মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, তার মৃত্যুর জন্য স্বামী আজম, শাশুড়ি, শ্বশুর এবং আসলাম নামের এক ব্যক্তি দায়ী। তার দাবি, স্বামী নিয়মিত তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিক নির্যাতনও করা হয়।
ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি যদি দুনিয়ায় না থাকি, আমার কবরের কাছে একটু যেয়ো। তোমাকে অনেক ভালোবেসে পরিবার ছেড়ে এসেছিলাম। আর মানসিক যন্ত্রণা নিতে পারছি না।”
নিজের ছোট্ট সন্তানকে নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.