ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রম চালানোর সময় কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নয়, বরং নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ইউনিটটিতে সিস্টেমে চাপ প্রয়োগের (প্রেশার টেস্ট) পর প্রকৌশলীরা কয়েকটি স্থানে ক্ষুদ্র ত্রুটি শনাক্ত করেন। এরপর পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা স্থগিত রেখে সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়। দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, পরীক্ষামূলক ধাপে এ ধরনের বিষয় শনাক্ত হওয়াকে প্রযুক্তিগত যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম ইউনিটে একটি সীমিত পরিসরের কারিগরি সমস্যা ধরা পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষাকালে তিনটি ভিন্ন স্থানে ছোট আকারের ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে। অতীতে একই ধরনের সীমিত সমস্যা দেখা গেলেও নিরাপত্তা বিবেচনায় এবারও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রূপপুর পরিদর্শনকালে বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিনিধিদলের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে কোনো ত্রুটি বা নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিলে প্লান্ট সাময়িক বন্ধ রাখা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
আইএইএ প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, সংস্থাটি কারিগরি সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ করলেও কেন্দ্র পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষই গ্রহণ করে থাকে।
এদিকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘নিউক্লিয়ার এনার্জি: স্ট্রাটেজি, রিয়েলিটিজ অ্যান্ড বাংলাদেশ পাথ ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক আলোচনা সভায় রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হবে।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.