নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট সফলভাবে রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে। এর মধ্য দিয়ে ইউনিটটিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্বনির্ভর পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এনপিসিবিএলের নেতৃত্বে চলমান কমিশনিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরামিতিগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই অগ্রগতির ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। তবে রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন মানেই বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু নয়। এর আগে কমিশনিংয়ের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরের পদার্থবিজ্ঞানসংক্রান্ত পরীক্ষা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই, পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রিড সংযোগের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চালানো হবে। এসব কার্যক্রম অনুমোদিত কারিগরি পদ্ধতি ও নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নির্মাণ ও কারিগরি প্রস্তুতির পর রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের এই অর্জন বাংলাদেশের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সক্ষমতার বিকাশে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি এনপিসিবিএলের প্রকৌশলী, কমিশনিং বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর সফলভাবে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা এবং গ্রিড সিনক্রোনাইজেশন নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। এসব ধাপ শেষ হলেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ আরও সুগম হবে।