সিয়াম শায়ের: স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাণ্ডারি তাদের পথচলার শুরু থেকেই পরিচালনা করে আসছে ‘এক টাকার সেমাই’ প্রজেক্ট। প্রজেক্টের মূল কনসেপ্ট হলো সংগঠনের সদস্যদের তৃণমূলে ঘুরে ঘুরে টোকেন সরবরাহ করা। এরপর এক টাকার বিনিময়ে ঈদের সেমাই, চিনি এবং দুধ সরবরাহ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে। এই যে এক টাকার যে ফান্ডটি আসে, তা দিয়ে সংগঠনটি ছিন্নমূল বাচ্চাদের নতুন জামা কিনে দেয়। ৫ বছর ধরে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মাঝে এটি আশার সঞ্চার করেছে। তারা এখন ঈদ এলেই থাকে এক টাকার সেমাইয়ের অপেক্ষায়।
চা শ্রমিকদের ২০০ পরিবারে আনন্দ
কাণ্ডারির এই কার্যক্রম প্রথমে শুরু হয় যশোর থেকে। শুরুতেই ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর ধীরে ধীরে সংগঠনটি ৭ জেলায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরমধ্যে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অবহেলিত চা শ্রমিকদের ২০০ পরিবারে এক টাকার সেমাই বিতরণ করা হয়। কেবল তাই নয়; ২০০ চা শ্রমিকের বাচ্চাদের ঈদে নতুন জামা কাপড়ও উপহার দেয় সংগঠনটি।
পাহাড়পুর হয়ে বাগেরহাটের শরণখোলায়
কুলাউড়ার পাশাপাশি কাণ্ডারি কুষ্টিয়ার পাহাড়পুরের প্রতিবন্ধী স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে। সেখানেও প্রায় ২০০ বাচ্চাকে এক টাকায় সেমাই বিতরণের পাশাপাশি ঈদের জামা উপহার দেয়। সেই সঙ্গে বাগেরহাটের শরণখোলায়ও স্বেচ্ছাসেবকরা গিয়েছেন। প্রান্তিক সেই জনগোষ্ঠীর মোঝে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ১৪০ জন মাকে শাড়ি কিনে দেয় কাণ্ডারি।
কিশোরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রৌমারীতে
কিশোরগঞ্জে ১৮০টি পরিবার এবং কুড়িগ্রামের রৌমারীর ১০০ পরিবারের মাঝেও এক টাকার সেমাই বিতরণের পাশাপাশি সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা ছোটদের ঈদের জামা উপহার দেয়। কাণ্ডারির প্রতিষ্ঠাতা আফসারা আলভী বলেন, ‘সেখানে গিয়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা অবাক হয়েছেন এই দেখে যে, অনেক পরিবারের সদস্যরা বিগত দুই থেকে তিন বছরেও ঈদে নতুন জামা পরতে পারেনি। অনেক বাচ্চা আছে যাদের বাবা নেই, তাই ঈদে নতুন জামাও কেনা হয় না তাদের। এসব মানুষের হাসিই আমাদের ঈদ রাঙিয়ে তুলেছে। এরচেয়ে আনন্দের যেন কিছুই হতে পারে না! সত্যি কথা বলতে আজ আমাদের এক টাকার সেমাই প্রজেক্ট কেবল এক টাকার বিনিময় সেমাই-এর গণ্ডি পেরিয়ে অনেক বড় আকার ধারণ করেছে। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছে।’
শুরুর কথা
করোনা মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে আঘাত হানে সুপারসাইক্লোন আম্পান। সেই আম্পানের তাণ্ডবে গুঁড়িয়ে যায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটী ইউনিউনের দেলুটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে সেই স্কুলে পৌঁছে যান সুদূর আমেরিকা থেকে মানবিককন্যা আফসারা আলভি। দেশের প্রতি অসীম ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ থেকে আফসারা আলভী তাঁর বন্ধুদের মাধ্যমে সেই স্কুলটিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। সেই থেকে জন্ম নেয় প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাণ্ডারির।
কাণ্ডারির কাজ
কাণ্ডারি মূলত প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষা নিয়ে কাজ করলেও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত থাকে সারা বছর। তারই অংশ হিসেবে ঈদের খুশি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। এক টাকার সেমাই নামের প্রজেক্ট চালু করে তারা। এ বছর যশোর, কুষ্টিয়া, কুলাউড়া, কুড়িগ্রাম, শরনখোলা ও কিশোরগঞ্জে এই কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.