জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মামলা ও ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করা হয়েছে। মামলার বাদীর অভিযোগ, জমিতে গাছপালা কেটে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরেজমিনে ওই স্থানে দৃশ্যমান কোনো গাছপালা দেখা যায়নি। ছবি: নিজস্ব
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার চরপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মামলার আসামিদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের হয়রানি করতে এ মামলা করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চরপাড়া গ্রামের দবির উদ্দিন, কাবির উদ্দিন, মোসলেম সরদার ও তছিম দিং এর নামে আরএস ৫৩৩ নম্বর খতিয়ানের ১৭২৮ নম্বর দাগে ৪১ শতক জমি রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে তাদের ওয়ারিশরা জমিটি ভোগদখলে থাকা অবস্থায় অর্থের প্রয়োজনে বিক্রির ঘোষণা দেন। ২০২১ সালের ৪ অক্টোবর চরপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আমিরুল ইসলাম ওই জমি কবলা দলিলের মাধ্যমে কিনে নেন। এরপর তিনি জমির দখল বুঝে নিয়ে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ২১ আগস্ট সকালে বিবাদীরা ওই সম্পত্তি দখল, গাছপালা কেটে ফেলা, জমি অন্যত্র বিক্রি এবং তার ভোগদখলে বাধা সৃষ্টি করার জন্য হুমকি-ধমকি দেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি গত ২৫ আগস্ট পাবনার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আদালতে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৪৯১।
মামলায় জমিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন ১৪৪ ধারা জারি করা হবে না, তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
মামলার বিবাদীরা হলেন, চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের পৈলানপুর গ্রামের আবু বক্করের দুই ছেলে আজিত প্রামাণিক ও আয়াজ প্রামাণিক, সোনাহারপাড়া গ্রামের মৃত জয়নালের ছেলে হেলাল উদ্দিন, একই গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে মহোরম হোসেন, মৃত আক্কাস আলীর ছেলে মেহেদি হাসান ও তার বোন আঁখি খাতুন।
তবে মামলার বিবাদী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জমিটির মালিকানা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, দবির, কবির, মোসলেম ও তছিমদিং ১৯৫৪ সালে তাদের ভাগ্নে আবু বক্করের কাছে ৪১ শতক জমি বিক্রি করেন। আবু বক্করের চার মামা প্রায় ৬০ বছর আগে এবং আবু বক্কর প্রায় ৩০ বছর আগে মারা যান। এরপর ওই জমি তার সন্তানরা ভোগদখলে রাখেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এর মধ্যে সোনাহারপাড়া গ্রামের সূর্যাল মাস্টার নামের এক ব্যক্তি কৌশলে ২৩ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলে নেন। তিনি এসএ খারিজ করতে পারলেও আরএস খারিজ করতে পারেননি। অন্যদিকে, দবির-কবির গংয়ের রেকর্ডের ভিত্তিতে তাদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ৬ দশমিক ৬৯ শতক জমি কিনে খারিজ করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেন আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে একই দাগের আরও ৪ দশমিক ৩০ শতক জমি কেনার দাবি করে খারিজের জন্য এসি ল্যান্ডের কাছে আবেদন করেন তিনি। তবে সেই আবেদন এসি ল্যান্ড নাকচ করে দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মামলার শিকার হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমার মামাতো ভাইরা জমির কাগজপত্র দেখে সব সংশোধন করার দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। সংশোধন করতে পারলে তারা তাদের জমি আমার কাছে বিক্রি করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এ কারণে দলিলসহ সব কাগজপত্র সংশোধনের চেষ্টা করছি। আমিরুলের কেনা একই দাগের জমিতে আমার ১২ শতক জমি আছে।”
তিনি আরও বলেন, “মূলত তাদের কোনো ষড়যন্ত্র বা গোপন বিষয় ফাঁস হয়ে যেতে পারে এবং আমি যাতে পরবর্তীতে ওই জমি কিনতে না পারি, সে জন্য আমাদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। আমিরুল যে অভিযোগ দিয়ে মামলা করেছেন এবং ১৪৪ ধারা চেয়েছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই। তার বাড়ির সামনে কোনো গাছপালাও নেই। সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়াভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়েছে।”
হেলাল উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, আমিরুল ইসলাম ও তার বাবা আবুল হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তারা জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মানুষকে মামলা-মোকদ্দমায় হয়রানি করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মামলার বাদী আমিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তিনি কল রিসিভ না করে কেটে দেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বক্তব্য চেয়ে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.