চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়ও আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।
পাবনার চাটমোহরেও ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে আন্দোলন। সেই সময় সম্মুখ সারি থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি করেছেন চাটমোহর পৌর বিএনপির সাবেক দুইবারের সভাপতি এ. এম. জাকারিয়া।
তিনি জানান, ৪ আগস্ট চাটমোহরের জারদিস মোড় এলাকায় আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। কর্মসূচির আগে ও পরে বিভিন্ন মহল থেকে তাকে হুমকি-ধমকি এবং প্রাণনাশের ভয় দেখানো হলেও তিনি পিছু হটেননি। বরং ছাত্র-জনতাকে একত্রিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কর্মসূচি পরিচালনা করেন। ওই দিন সকালে ও বিকেলে দুটি পৃথক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ. এম. জাকারিয়ার দাবি, আন্দোলনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।
কর্মসূচি শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর কাছ থেকে নানা ধরনের হুমকি পান বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব চাপ উপেক্ষা করে তিনি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বলে জানান।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে এ. এম. জাকারিয়া বলেন, বিবেকের তাড়না এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি আন্দোলনে যুক্ত হন। তার ভাষ্য, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তন না এলে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা, হয়রানি, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হতো বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, “দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমি সেদিন রাজপথে নেমেছিলাম। ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থে মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
চাটমোহরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের কাছে ৪ ও ৫ আগস্টের ঘটনাগুলো এখনও সাহস, ত্যাগ ও গণআন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। আন্দোলনের বর্ষপূর্তি ঘিরে সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করছেন অংশগ্রহণকারীরা। এ. এম. জাকারিয়ার বক্তব্যও সেই স্মৃতিরই একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.