চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার তেনাচিড়া থেকে কাটাখালী সড়ক প্রশস্তকরণ ও মেরামত প্রকল্পের নির্মাণমান ও কাজের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে কাজ করছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন। তবে বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের অভিযোগ এবং ইতোমধ্যে দৃশ্যমান ত্রুটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে এজিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও এজিং হেলে পড়া ও ভেঙে যাওয়ার চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখা হয়নি এবং বিভিন্ন স্তরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কে ব্যবহৃত খোয়ার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে দ্রুত বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। এতে কাজের গুণগত মান নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বৃষ্টির মধ্যেই কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন করা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে, পবিত্র ঈদুল আজহার দুই দিন আগে, ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটারেরও বেশি অংশে পিচ ঢালাই করা হয়। নির্মাণকাজে আবহাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তেনাচিড়া–কাটাখালী সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হলেও নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় হতাশ স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পটির নিরপেক্ষ তদন্ত, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কটির টেকসই ও মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
গত ২৬ মে উপজেলা প্রকৌশলী মো. এনামুল কবির মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে বলেন, কাজ চলমান রয়েছে এবং কিছু ত্রুটি থাকলে পরে তা ঠিক করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টির কারণে সমস্যা হয়ে থাকতে পারে, ঈদের পর পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজ সম্পন্ন হলে এক বছরের জামানত থাকে, তখন কোনো সমস্যা থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সংশোধন করবে।”
বৃষ্টির মধ্যে পিচ ঢালাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে বৃষ্টি ছিল না এবং পরে আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে বাস্তবতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.