চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলায় বিয়ের দাবিতে কথিত প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার ডিবি গ্রাম ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে ওছামা নামের এক যুবকের বাড়িতে অবস্থান করছেন একই গ্রামের হালিমা খাতুন। তাঁদের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
হালিমা খাতুনের দাবি, ওসামার সঙ্গে তাঁর পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ সময়ে বিয়ের আশ্বাসে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভপাত করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। হালিমার ভাষ্য, ওছামার পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় তিনি বিয়ের দাবিতে ওই বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।
হালিমা জানান, এর আগেও তিনি তিনবার বিয়ের দাবিতে ওসামাদের বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। আগের একটি ঘটনায় ওছামার বড় ভাই নাসিম তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান হালিমা। ওছামার সঙ্গে কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হালিমার দাবি, সোমবার রাত থেকে তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। রাতে বাড়ির এক গৃহবধূ তাঁকে নিজের ঘরে থাকার সুযোগ দেন। পরে ভোর থেকে তিনি আবার বাড়িতে অবস্থান নেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিয়ের বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করলেও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। ওছামার এক মামা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছেন বলেও দাবি করেন হালিমা। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি থেকে যাবেন না বলে জানান তিনি।
হালিমার ভাবী রেবেকা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হালিমা ও ওছামার মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর সামনেও তাঁদের কথা হতো বলে জানান তিনি। রেবেকার দাবি, এর আগে হালিমা বিয়ের দাবিতে ওসামাদের বাড়িতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী হালিমাকে ওমরাহ হজ করানো হয় বলে তিনি জানান। তবে এরপরও বিয়ের বিষয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। রাতে মামলা করতে গিয়েছিলাম ওসি বলেছে দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক আপনারা স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করেন অথবা কোর্টে মামলা করেন।
অন্যদিকে, হালিমার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওছামার বাবা আরিফ বিল্লাহ। তিনি বলেন, তাঁর ছেলেকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। হালিমার পক্ষ থেকে যে কল রেকর্ডের কথা বলা হচ্ছে, তার কণ্ঠস্বর ওছামার বলে তাঁর মনে হচ্ছে না। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেন তিনি।
ওসামার বড় ভাই নাসিম বলেন, এর আগে হালিমা তাঁদের বাড়িতে এলে পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না, শুধু তাঁর বড় বোন বাড়িতে ছিলেন। নাসিমের দাবি, হালিমা তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে একটি ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।
চাটমোহর থানার ওসি তদন্ত লালবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি, তারা দুজনেই একসাথে শিক্ষকতা করতো। তবে বিষয়টি পারিবারিক ভাবে সমাধান করে নেয়ার কথা।