ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে (৪১) গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শরিফুল ইসলাম শরীফ নিজে ঈশ্বরদী থানায় উপস্থিত হয়ে এজাহারটি দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে শরিফুল ইসলাম শরীফ নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর শিমুলতলা এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তার গাড়ির গতিরোধ করেন। পরে দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে ১ নম্বর আসামি হত্যার উদ্দেশ্যে খুব কাছ থেকে শরীফের পায়ে ও মুখের ভেতরে গুলি করেন। পরে ২ ও ৫ নম্বর আসামি মুকুল হোসেনসহ অন্যরা চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপান। একপর্যায়ে তার প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত শরীফকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে শরীফের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। শরীফ ওই পদে প্রার্থী ছিলেন। অন্য একজন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করার জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
থানায় সাংবাদিকদের কাছে শরিফুল ইসলাম শরীফ দাবি করেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্দেশেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় জড়িতরা সবাই জেলা বিএনপির আহ্বায়কের অনুসারী বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ সশরীরে থানায় এসে একটি এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.