সুজন আহম্মেদ (ভাঙ্গুড়া) : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ১৮০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির ৬৯ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোনসহ আবু হুরাইয়া (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মসজিদপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আবু হুরাইয়া মসজিদপাড়া এলাকার মো. বারিকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার বাবা ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তবে এ রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আবু হুরাইয়া ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে জরুরি ও বাজার ডিউটি পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মসজিদপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আবু হুরাইয়াকে আটক করে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে ১৮০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৬৯ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দতালিকা তৈরি করে উদ্ধার করা আলামত জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ০৫। গ্রেপ্তার আবু হুরাইয়াকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে একই রাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে বাজার ডিউটি পার্টি তাদের থানায় নিয়ে আসে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন চৌবাড়ীয়া ভদ্রপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মো. লিটন (৪০), একই এলাকার মো. জহুরুল প্রাংয়ের ছেলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান লিমন (২৮) এবং কুমড়াডাঙ্গা এলাকার এস এম তাওহীদ-উর-রহমানের ছেলে মো. মাহবুব এলাহী (১৮)।

পুলিশের ভাষ্য, সম্ভাব্য অপরাধ ও শান্তিভঙ্গ প্রতিরোধের লক্ষ্যে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৫১ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে তাদেরও আদালতে পাঠানো হয়।

ভাঙ্গুড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমনে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আবু হুরাইয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলাটির তদন্তও চলমান রয়েছে।