ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারি ঘর বিক্রি, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত রাখা এবং সেই ঘরগুলোতে জুয়া, মাদকসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন।
পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে চর-ভাঙ্গুড়া, পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরিদর্শনে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় যেসব ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর বিক্রি করা হয়েছে অথবা দীর্ঘদিন ধরে বসবাসহীন অবস্থায় পড়ে আছে, সেসব ঘরের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর।
এর আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যে ভাঙ্গুড়ায় নির্মিত ১০১টি আশ্রয়ণ ঘরের মধ্যে অন্তত ৩৫টি ঘর ৮০ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২৫টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পরিত্যক্ত ঘরকে কেন্দ্র করে এলাকায় জুয়া, মাদক সেবন ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম বাড়ছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গণমাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসার পর জেলা প্রশাসন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়। প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা। কিন্তু অনিয়ম ও দুর্বল নজরদারির কারণে কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তারা চান, প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে ঘর ফিরিয়ে দিতে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পরিদর্শন শেষে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন,
“জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় সরেজমিনে তদন্ত ও পরিদর্শন করা হয়েছে। যেসব উপকারভোগী সরকারি আশ্রয়ণ ঘর বিক্রি করেছেন অথবা বরাদ্দ পাওয়ার পরও সেখানে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাতিল করা হবে। পরবর্তীতে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার যাচাই করে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম বা অপব্যবহার সহ্য করা হবে না।”
সচেতন মহলের অভিমত, প্রশাসনের এই উদ্যোগ শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে না, বরং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.