বার্তা সংস্থা পিপ (ঢাকা) : বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান

জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাথে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি আজ এ আহ্বান জানান।

সকালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং মরক্কোর নবনিযুক্ত আবাসিক রাষ্ট্রদূতগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের পরিচয়পত্র পেশ করেন । বঙ্গভবনে পৌঁছলে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট-এর একটি চৌকস দল তাঁদের গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রথমে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত লেলাবুথাইনা এল কার্দুদি এল কু’লালি ( খধষষধ ইড়ঁঃযধরহধ ঊষ কবৎফড়ঁফর ঊষ কড়ঁষধষর) তার পরিচয় পত্র পেশ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয় পত্র পেশ করেন দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন (করস ঔর-লড়ড়হ)। রাষ্ট্রপতি উভয় রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে জানান, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। তিনি বলেন, বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ও হুন্দাই-সহ প্রায় শতাধিক কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামে অবস্থিত ইয়াংওয়ান গ্রুপের কোরিয়ান ইপিজেড ও দেশের বিভিন্ন ইপিজেড-এ বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমানে দেশে অত্যন্ত চমৎকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল, ইলেক্ট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও প্রযুক্তি, তৈরি পোশাক ও অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগ আরও বাড়াতে নতুন রাষ্ট্রদূতকে উদ্যোগ নেয়ার আহŸান জানান।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন দুদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি কোরিয়ান বাজারে ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের চলমান শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর অন্তত আরো চার বছর অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রপতি এ সময় দু’দেশের মধ্যে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট বা সেপা (ঈঊচঅ) স্বাক্ষরের বিষয়ে সার্বিক অগ্রগতিতেও গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। তিনি বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন সংস্থাসমূহের কাজের প্রশংসা করেন এবং তাদের ঋণ সহায়তা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে বলে উলে­খ করেন। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি দেশটির জাহাজ নির্মাণ ও আইসিটিসহ বিভিন্ন শিল্পে আরো বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, তাঁর দেশ বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গভীরভাবে আগ্রহী। তিনি দুদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এর আগে মরক্কোর রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেন, দুদেশের মধ্যে বিরাজমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার ও অগ্রসরমান। তিনি এসময় ১৯৮১ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে রাবাতের একটি সড়কের নামকরণের জন্য সে দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতি মরক্কোর স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো নির্মান, তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাত ও আইসিটি-সহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমশক্তি নিয়োগে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেন, এই বন্ধুপ্রতীম দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারের অনেক সুযোগ রয়েছে। তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের ওপর জোর দেন।

নতুন রাষ্ট্রদূতগণ বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন ।

এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।