সুজন আহম্মেদ, ভাঙ্গুড়া: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বসতবাড়িতে গড়ে তোলা ভেজাল দুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জেলি, তেল ও প্রস্তুত করা ভেজাল দুধ জব্দের পর ধ্বংস করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার মালিকসহ দুজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ধ্বংস করা মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামে কারখানার মালিক মো. আবুল বাশারের নিজ বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) যৌথ উদ্যোগে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে বাড়িতে ভেজাল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ ও প্রস্তুত করা দুধ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছিল ৩৬ ড্রাম জেলি, যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেজি, দুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ২০০ লিটার তেল এবং ৩২০ লিটার প্রস্তুত করা ভেজাল দুধ। পরে জব্দ করা সব উপকরণ ও ভেজাল দুধ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে এসব উপকরণ ব্যবহার করে ভেজাল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এ কারবারের সন্ধান পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাশার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের মৃত আবু তালেব প্রামাণিকের ছেলে। তাঁর সহযোগী মো. সবুজ একই গ্রামের মো. হাবিল প্রামাণিকের ছেলে।

অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানার মালিক আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর সহযোগী সবুজকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

অভিযানে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাহান উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আবুল বাশার ভেজাল দুধ তৈরির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জেলি, তেল ও প্রস্তুত করা ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়েছে। পরে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

বসতবাড়িতে এভাবে ভেজাল দুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।