মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রাজিনা খাতুন (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর ভাই মো. দেলোয়ার হোসেন। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন এসব দাবি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর রাজিনা খাতুনের মৃত্যু হয়। তাঁর স্বামী মৃত মো. রফিকুল ইসলাম। তাঁদের বাড়ি উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামের খাঁপাড়া এলাকায়। প্রায় ৩২ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, বোনের মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে বিরোধ সৃষ্টি, মানসিক হয়রানি, অপমান ও বসতবাড়ি নিয়ে চাপ প্রয়োগ করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দেলোয়ার হোসেনের সন্দেহ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর বোনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর অভিযোগ, মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে হত্যার অভিযোগ কিংবা ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগপত্রে মো. রাশিদুল ইসলাম (রাসেল), মো. এনামুল হক ও মো. রাজিবুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য, বোনের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩০৬ ধারায় মামলা করতে চেয়েছিলেন। তবে থানা মামলা গ্রহণ না করে আদালতের মাধ্যমে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে মো. আব্দুল মতিন মোল্লা, মো. আবুল কালাম আজাদ ও মো. আমিনুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, কল রেকর্ড ও ভিডিওচিত্রকে সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
দেলোয়ার হোসেনের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বোনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে। তদন্তে কারও অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজিনা খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হত্যার অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.