সুজন আহম্মেদ, ভাঙ্গুড়া: ভাঙ্গুড়ায় সরকারি ভর্তুকির সার অবৈধভাবে মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে একটি সার ডিলারের গোডাউনের সামনে বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যৌথভাবে কয়েকটি গোডাউন খুলে পরিদর্শন করেন। এ সময় সেখানে বিপুল পরিমাণ সার মজুদ পাওয়া যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কয়েকটি সার গোডাউনে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগ পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাঁরা গোডাউনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হুমায়ূন আহমেদ, সদস্যসচিব লিখন সরকার এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল রানা পিন্টু। এ সময় তাঁরা সার মজুদের অভিযোগ তদন্ত, নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে প্রতি বস্তা সার ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও তা ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিষয়টি জানিয়ে তাঁরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোন করেন এবং সরেজমিনে তদন্তের আহ্বান জানান।

স্থানীয়ভাবে ‘ইমরুল ট্রেডার্স’ নামের একটি সার ডিলারের গোডাউনে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগ ওঠে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গোডাউনগুলো পরিদর্শন করেন। কৃষি কর্মকর্তা জানান, রিপন নামের এক ডিলারের কাছে প্রায় ৯০০ বস্তা সার মজুদ রয়েছে। এসব সার বেতুয়ান, খানমরিচ ও দিলপাশার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে।

এ সময় ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব লিখন সরকার বলেন, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকেরা যেন নিশ্চিন্তে সার পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সার নিয়ে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি এবং সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা বলেন, “কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”

তবে গোডাউনে পাওয়া সারের মজুদ অবৈধ কি না এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।