পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় থানায় প্রায় ৩০ জন লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বিএনপির একটি ওয়ার্ড কমিটির সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভিজিডি কার্ড, গভীর নলকূপ, সরকারি ঘরসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গত কয়েক মাসে উপজেলার রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া ও ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেন সোহেল রানা। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কেউ প্রতিশ্রুত সুবিধা পাননি।

রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহেল আহমেদ বলেন, “সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও কোনো কার্ড পাইনি।”

আরেক ভুক্তভোগী তায়জাল হোসেন জানান, “সরকারি ঘর দেওয়ার আশ্বাসে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। টাকা দেওয়ার প্রমাণও রয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ঘর পাইনি।”

স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন অজুহাতে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার রাতে কয়েকজন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোহেল রানাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে ভাঙ্গুড়া থানায় নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে তার স্ত্রী শিখা বলেন, “আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মানুষ নানা অভিযোগ করে। যারা টাকা দিয়েছে, তারা এখন টাকা ফেরত চাইছে। এ নিয়েই ঘটনা ঘটেছে।”

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, সরকারি সুবিধা দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ: #পাবনা #ভাঙ্গুড়া #প্রতারণা #বিএনপিনেতা #সরকারিসুবিধা #ভিজিডিকার্ড #গণপিটুনি #থানায়অভিযোগ #বাংলাদেশ_সংবাদ