বিশেষ প্রতিবেদক: পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা ভাঙ্গা মসজিদের পাশের তিনমাথা সড়ক। কয়েক দিন ধরে রাতের বেলায় সেখানে নানা ধরনের ‘অস্বাভাবিক ঘটনা’ ঘটছে বলে দাবি স্থানীয়দের। কখনো অজ্ঞাত বস্তু, কখনো সাপ-বিড়াল, আবার কখনো চোখের সামনে কোনো কিছু হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার গল্প ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। এসব ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও আতঙ্ক। আর সেই আতঙ্ক থেকে ‘ভূত-জিনের’ প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় মিলাদ মাহফিলের। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ৬০০ মানুষ অংশ নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কাটেঙ্গা ভাঙ্গা মসজিদের পার্শ্ববর্তী তিন রাস্তার মোড়ে কয়েক দিন আগে রাতে এক ব্যক্তিকে অজ্ঞাত কোনো বস্তু পুকুরে ফেলে দেয় বলে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করেন। এছাড়া ওই সড়কে চলাচলের সময় সাপ, বিড়ালসহ বিভিন্ন অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন কয়েকজন। তাদের দাবি, কিছুক্ষণ পর এসব দৃশ্য আবার চোখের সামনে থেকেই অদৃশ্য হয়ে যায়।

এলাকাবাসীর কেউ কেউ এসব ঘটনাকে ভূত বা জিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে করছেন। তবে এসব দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল জানান, কয়েক দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের মুরুব্বি ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মিলাদ মাহফিলের উদ্যোগ নেন। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চাল-ডাল সংগ্রহ করে শনিবার সকাল থেকেই খিচুড়ি রান্নার প্রস্তুতি শুরু হয়। সন্ধ্যার পর মিলাদ মাহফিলে প্রায় ৬০০ মানুষ অংশ নেন এবং পরে তাবারক গ্রহণ করেন।

ইসমাইল বলেন, “ভূত বলে কিছু না থাকলেও জিন থাকতে পারে। তাই ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মিলাদ পড়িয়ে এসব বিপদ থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাওয়া হয়েছে।”

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, আবার কেউ ঘটনাটিকে হাস্যরসের বিষয় হিসেবে নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

অস্বাভাবিক ঘটনার এসব দাবির সত্যতা কী, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। বিষয়টি ঘিরে কাটেঙ্গা ভাঙ্গা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এখনো চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।