পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় আবাসিক এক নুরানী শ্রেণির ছাত্রকে রাতে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. আক্তারুজ্জামান নামে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভজেন্দ্রপুর গ্রামের জামিয়া ফারুকিয়া মাদ্রাসায় ঘটেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন শুক্রবার শিশুটির মা বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রটি ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় শিক্ষক আক্তারুজ্জামান তাকে ডেকে মাদ্রাসার একতলা টিনশেডের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে কাপড়ের পর্দা দিয়ে ঘেরা স্থানে শিশুটিকে বলাৎকারের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটি সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেওয়া এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরে শিশুটি অন্য শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানালে মাদ্রাসায় ঘটনা জানাজানি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে মারধর করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার আক্তারুজ্জামান ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মো. গফুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি জামিয়া ফারুকিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। এজাহারে তার বিরুদ্ধে অতীতেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা তিনি এ ঘটনার ন্যায়বিচার চান।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.