চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: আধুনিকতার ছোঁয়া আর আকাশ সংস্কৃতির দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার একসময়ের জনপ্রিয় বিনোদন ও লোকজ সাহিত্যচর্চা ‘পুঁথি পাঠের আসর’। সেই হারানো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চাটমোহরের একদল সংস্কৃতিপ্রেমী তরুণ।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের সোনাহার পাড়ায় কিতাব প্রামাণিকের বাড়ির উঠানে বসছে ঐতিহ্যবাহী এই পুঁথি পাঠের আসর। তবে আয়োজনটি হবে একেবারেই গ্রামীণ আবহে। থাকবে না আধুনিক মঞ্চ কিংবা আলোর ঝলকানি। চাঁদের আলো, কুপি ও হারিকেনের মৃদু আলোয় মাদুর পেতে গোল হয়ে বসবেন শ্রোতারা। আর গায়েনদের কণ্ঠে ভেসে আসবে রূপকথা, প্রেম ও বীরত্বগাথার গল্প।
আয়োজকরা জানান, একসময় গ্রামবাংলার মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল পুঁথি পাঠ। ফকির গরীবুল্লাহর ‘আমীর হামজা’ থেকে শুরু করে ‘শাহনামা’, ‘হাতেম তাই’, ‘কমলা সুন্দরী’, ‘দেলদার কুমার ও শাহজাদী দিল পিঞ্জির’সহ নানা কিচ্ছা-পুঁথি শুনতে মানুষের ভিড় জমত। সময়ের পরিবর্তনে সেই আসর এখন প্রায় বিলুপ্ত।
চাটমোহরের এবারের আয়োজনে কবি আসাদুজ্জামান দুলাল পাঠ করবেন ‘বিবি সোনাভান’ পুঁথি। পাশাপাশি মো. লইমুদ্দিন প্রামাণিক পাঠ করবেন জনপ্রিয় ‘গাজীকালু ও চাম্পাবতী’ পুঁথি।
আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যে হাতে লেখা পোস্টার ও প্রচারণার মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন সংস্কৃতিপ্রেমী সজল বিশ্বাস, ডা. আতিক, বিপ্লব আচার্য্য, নিয়ামুল মুক্তা, প্রভাষক আব্দুল মান্নান, অম্লান ভট্টাচার্য, সৌরভ কুণ্ডু, শুভ কর্মকারসহ একঝাঁক তরুণ।
আয়োজকদের অন্যতম ডা. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। গ্রামীণ বিনোদনের চিরচেনা এই সুরকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন।’
তরুণদের এমন উদ্যোগে চাঁদের আলোয় এক রাতের জন্য হলেও যেন ফিরে আসছে গ্রামবাংলার সেই হারিয়ে যাওয়া পুঁথির দিন।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.