পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক অভিযানে ৫০০ মিলিলিটার ‘ফেয়ারডিল’ ও ৩০০ মিলিলিটার ‘এসকাফ’ নামীয় নেশাজাত সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাদক সেবনের অভিযোগে তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পাবনা জেলা কার্যালয়ের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি রেলগেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসি ঈশ্বরদী সার্কেল টিম। অভিযানে পরিদর্শক মো. আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে মো. রফিকুল ইসলাম রবি খন্দকারের (৪৮) বসতবাড়ি থেকে ৫০০ মিলিলিটার ফেয়ারডিল ও ৩০০ মিলিলিটার এসকাফ সিরাপ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

ডিএনসি জানায়, অভিযানের সময় রফিকুল ইসলাম রবি খন্দকার পলাতক থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি মুলাডুলি রেলগেট এলাকার মো. আবু সাঈদ খন্দকারের ছেলে। এ ঘটনায় ডিএনসির পরিদর্শক মো. আব্দুর রহিম বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর এলাকার বিভিন্ন মাদকস্পটে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তিন মাদকসেবীকে আটক করে ডিএনসি সদর সার্কেল টিম।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর এলাকার মৃত তুরাব আলীর ছেলে মো. নাহিদ হোসেন (৪০), একই এলাকার দেলোয়ারের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম রবি (৪০) এবং বলরামপুর এলাকার নিয়ামত মোল্লার ছেলে মো. খাইরুল (৪৫)।

পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত তাসনিম বর্ষার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পরে ডিএনসির কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন দিলে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ডিএনসির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসে এ পর্যন্ত মাদক অপরাধের অভিযোগে মোট ৯৮ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।