চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগে মো. কমোল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত কমোল হোসেন ওই গ্রামের মাইনুল হোসেনের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন চাটমোহর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল মাহমুদ। অভিযানকালে ভেজাল দুধ তৈরিতে ব্যবহারের অভিযোগে কস্টিক সোডা, জেল, সয়াবিন তেল, ব্লেন্ডার মোটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

তবে ভেজাল দুধ তৈরির উপকরণ জব্দের পরও অভিযুক্তকে দেওয়া দণ্ডের পরিমাণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি বলছেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে দণ্ডের পরিমাণ এবং কোন আইনের কোন ধারায় এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি।

এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে, ভেজাল দুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ জব্দের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন আইনের কোন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ওই ধারায় ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণের আইনগত ভিত্তি কী।

স্থানীয়দের দাবি, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুধু ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা নয়, এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শাস্তির বিষয়েও স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।