পাবনা প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাবনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফলদ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, পাবনার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা ও অন্যান্য ফলদ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বারির সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, জয়দেবপুর, গাজীপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল। সভাপতিত্ব করেন পাবনা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আরিফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) পাবনা জেলা শাখার সদস্যসচিব ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং লাগানো গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেন সরবরাহই করে না, কার্বন শোষণ, মাটির ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ অতিথি ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান বলেন, বৃক্ষরোপণ পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি একটি মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। মহানবী (সা.) বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৌদি আরবের মরুভূমিতেও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি পরিবারের অন্তত কয়েকটি ফলদ গাছ লাগানো উচিত। একটি ফলদ গাছ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও উপকার বয়ে আনে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বারির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রবিউল আলম, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম হোসাইন মোল্লা, ড. সাখাওয়াত হোসাইন, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোস্তাক আহমেদ, ড. মো. মনিরুজ্জামান, মো. জাহেদুল হাসান, ফাতেমাতুজ জহুরা, মো. তাইফুর রহমানসহ বারির অন্যান্য কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।