পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা শহরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক ও নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৭ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. সুফি উল্লাহর নির্দেশনায় পাবনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আকতার বাদী হয়ে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে পাবনা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৩৬।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে পাবনা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শালগাড়ীয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে এবং মালিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গোপন বৈঠকে মিলিত হন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করছিল।

এ তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে পাবনা সদর থানার একটি বিশেষ টিম সদর হাসপাতাল রোডসংলগ্ন জাকিরের মোড়ের তিন রাস্তার মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইটের টুকরো ফেলে মোটরসাইকেল ও দৌড়ে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পুলিশ একটি চাইনিজ কুড়াল, তিনটি লোহার রড, তিনটি বাঁশের লাঠি এবং ২০টি ইটের টুকরো জব্দ করে। স্থানীয় সাক্ষী মো. শওকত হামিদ খান (বাবু) ও মো. আরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে এসব আলামত জব্দ করা হয়।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম (৩৮), মীর রাকিবুল ইসলাম সীমান্ত (২৭), যুবায়ের বিশ্বাস অন্তু (৩২), তৌশিকুর রহমান ওরফে রাজা ওরফে রাফা (২৮), মো. ইফাত আরাফাত ওরফে সিফাত (২৫), মো. অনিক (২৫), রনি (৪৫), রানা ওরফে ঘুইটা রানা (৪৫), কাজী অনিক (২৫), বিজন হোসেন (২৫) ও নয়ন হোসেন (৪০)সহ মোট ৩৭ জন।

পাবনা সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, অবৈধ সমাবেশ এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।