স্টাফ রিপোর্টার: পাবনার চাটমোহরে দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ভ্যানচালক নাছের আলীর পরিবারে এখন নেমে এসেছে শোক আর অনিশ্চয়তা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী-সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারটির জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
গত ৮ জুলাই বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বোয়াইলমারী কবরস্থানের পাশে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন আগশোয়াইল টলটলিপাড়া গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে নাছের আলী (৪২)। তিনি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ জানায়, রাতে যাত্রী নিয়ে ছাইকোলা যাওয়ার পর ফেরার পথে বোয়াইলমারী এলাকায় দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। তাকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নাছের পাশের একটি বাড়ির দরজায় গিয়ে সাহায্য চাইতে চেষ্টা করলেও সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে তার অটোভ্যানটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
নাছের আলীর মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে তার পরিবার। দুই ছেলের মধ্যে একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অন্যজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে তাদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার নিহতের বাড়িতে যান ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরী। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। পাশাপাশি পরিবারটির জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ইউএনও মুসা নাসের চৌধুরীর এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই বলছেন, শোকাহত ও অসহায় একটি পরিবারের কঠিন সময়ে প্রশাসনের এমন পাশে দাঁড়ানো মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এদিকে, নাছের আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.