পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি এলাকায় পাপিয়া খাতুন (৩৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সৌদি প্রবাসী হুমায়ুন কবির সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার দোগাছি এলাকার বিল্ডিং বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাপিয়া খাতুন একই এলাকার আব্দুর রশিদ শেখের মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর আগে পারিবারিকভাবে পাপিয়া খাতুনের সঙ্গে প্রতিবেশী হুমায়ুন কবির সরদারের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে হুমায়ুন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। কোরবানির ঈদের আগে তিনি ছুটিতে দেশে ফেরেন।
স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর হুমায়ুন অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। মঙ্গলবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাতেও বাড়িতে উচ্চস্বরে কথা কাটাকাটির শব্দ শুনেছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাপিয়াকে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে দেখা যায়। পরে দুপুরের পর পরিবারের সদস্যরা তার কোনো সাড়া না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, পাপিয়া শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং তাকে খুব বেশি বাইরে যেতে দেওয়া হতো না। তাদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে স্বামীর পরকীয়ার বিষয় নিয়ে সংসারে অশান্তি চলছিল।
নিহতের চাচা আসলাম হোসেন বলেন, “আমার ভাগ্নি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন, কয়েকবার হজও করেছেন। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে আমরা বিশ্বাস করি না। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। আমরা সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।”
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য ছিল।
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.