সঞ্জিত চক্রবর্তী: জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেকেই যখন অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখনও নিজের আত্মমর্যাদা আর কর্মস্পৃহাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে ছিলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটলংকা দক্ষিণ সেনগ্রামের প্রবীণ মানুষ মোঃ মুকবুল হোসেন। ৯০ বছরের বেশি বয়সেও তিনি কারো কাছে হাত পাতেননি, ভিক্ষা করেননি। সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে নিজেই জোগাড় করেছেন সংসারের খরচ।
গত ১ জুন তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে তার জীবনসংগ্রামের গল্প রেখে গেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক মুকবুল হোসেনের বয়সের ভার ছিল, ছিল শারীরিক সীমাবদ্ধতাও। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের বিলের কাগজ সংগ্রহ করতেন। পরে সেগুলো ব্যাংকে জমা দিয়ে আসতেন নিজ দায়িত্বে। বিনিময়ে কেউ যা দিতেন, তাই দিয়েই চলত তার ও তার স্ত্রীর সংসার।
স্থানীয়দের মতে, আত্মসম্মানবোধ ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। অভাব-অনটন থাকলেও কখনো কারো কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়াননি। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেছেন।
জীবনের বড় একটি সময় তিনি স্থানীয় মসজিদে মোয়াজ্জেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতার কারণে সেই দায়িত্ব আর পালন করতে পারেননি। কিন্তু ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি তার ভালোবাসা কমেনি। নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন এবং রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফে বসতেন।
গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন সৎ, ধর্মপ্রাণ ও পরিশ্রমী মানুষ। অনেকেই বলেন, বর্তমান সময়ে আত্মমর্যাদা ও কর্মনিষ্ঠার এমন উদাহরণ খুব কমই দেখা যায়।
মুকবুল হোসেনের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে তার জীবনগাথা নতুন প্রজন্মকে শেখাবে, প্রতিকূলতার মধ্যেও মাথা উঁচু করে বাঁচার নামই জীবন।
মোঃ মুকবুল হোসেন আর নেই, কিন্তু তার সংগ্রাম, আত্মসম্মানবোধ এবং কর্মময় জীবন এলাকার মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.