নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনার ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের চলমান সংকট, মামলা জটিলতা এবং স্থবির হয়ে থাকা খননকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন পাবনা ও রিভারাইন পিপলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকলিপিও হস্তান্তর করা হয়।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ‘জায়ান ভবনে’ অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় নদী পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের অগ্রগতি, আদালতে চলমান মামলার প্রভাব, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সেতুগুলোর পুনর্নির্মাণ এবং খননকাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ ইছামতি নদী রক্ষায় আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, নদী রক্ষার এই উদ্যোগ পরিবেশ ও জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন নদীপ্রেমী হিসেবে তিনি ভবিষ্যতেও এ আন্দোলনের পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভায় ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন পাবনার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক এস.এম. মাহবুব আলমের নেতৃত্বে অংশ নেন রিভারাইন পিপল পাবনা জেলা শাখার সভাপতি ড. মনছুর আলম, খালেদ আহমেদ, কৌশিক হোসেনসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনায় নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া কিছু বিষয় পুনরায় নিম্ন আদালতে উপস্থাপন করে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নদী পুনরুদ্ধারের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ইছামতি নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্প শুরু হলেও ধারাবাহিক আইনি জটিলতার কারণে বিশেষ করে শহরাঞ্চলের খননকাজ প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা দাবি করেন, অবৈধ দখলদার ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত করতে বিভিন্ন সময়ে নিম্ন আদালতে প্রায় ১৪০টি মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সংশোধিত নকশা থেকে নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর পুনর্নির্মাণের বিষয়টি বাদ দেওয়ায় স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, দীর্ঘসূত্রতা ও মামলা জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ, নদীপ্রেমী ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সভায় আন্দোলনকারীরা দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসন, খননকাজের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করে ইছামতি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীবন্ত রূপ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।