নিজস্ব প্রতিবেদক:
অবশেষে পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটলঙ্কা বাজারের পাশে অবস্থিত সেই ঈদগাহ মাঠের বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। ঈদগাহ মাঠের নতুন নামকরণও করা হয়েছে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় এই বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। এর মাধ্যমে দুই গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও বিরোধ শেষ হয়ে শান্তি ফিরে আসলো।
বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের উপস্থিতিতে আটলঙ্কা ও বন্যাগাড়ি গ্রামের নেতৃবর্গকে নিয়ে এক সভায় এই বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী, থানার ওসি গোলাম মোস্তফা, পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম কালু, ভিপি সেলিম রেজা, অধ্যক্ষ মাহমুদুল আলম, লিখন বিশ্বাস, আব্দুল কুদ্দুস আলো, আব্দুল কুদ্দুস রেজাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন থেকে ঈদগাহ মাঠের নাম হবে হযরত শাহজালাল (রহ.) ঈদগাহ ময়দান। ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি হবে ২১ সদস্য বিশিষ্ট। সভাপতি ও ক্যাশিয়ারসহ ১৪ জন থাকবে আটলঙ্কা গ্রামের এবং সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ জন হবে বন্যাগাড়ি গ্রামের।
উল্লেখ্য, চাটমোহর উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের আটলঙ্কা গ্রামে সরকারি খাসজমিতে প্রতিষ্ঠিত ঈদগাহ মাঠ নিয়ে আটলঙ্কা ও বন্যাগাড়ি গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের মানুষ কয়েক দফা সংঘাত, সংঘর্ষ, আহত, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
আটলঙ্কা বাজারে থাকা বন্যাগাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেও দেওয়া হয়েছিল। গত ঈদুল ফিতরের নামাজ দুই গ্রামবাসী পুলিশী পাহারায় পৃথক পৃথকভাবে আদায় করে। পরবর্তীতে এই ঈদগাহ মাঠ যেহেতু সরকারি জায়গায়, তাই সেটি ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
অবশেষে কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধান হলো। সভায় উপস্থিত দুই গ্রামের নেতৃস্থানীয়রা এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, দুই গ্রামের মানুষ মেনে নিয়ে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন। এখন থেকে তারা একসাথে একই ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করবেন। আশা করছি, দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে আর কোনো বিরোধ থাকবে না। সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করবেন।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, ঈদগাহ মাঠের নামকরণ সহ কিছু বিষয় নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে অনেকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মারামারি হয়েছে, কয়েকজন আহত হয়েছে। দুটি মামলাও রয়েছে। ইউএনও এবং থানার ওসি বারবার চেষ্টা করছেন বিরোধ মেটানোর। কিন্তু হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমি দুইপক্ষকে ডেকে বুধবার সকাল দশটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বৈঠক করে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি। তারা লিখিতও দিয়েছে একসাথে এক ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করবেন। আমি খুব খুশি, দুই গ্রামের মানুষও খুশি। আল্লাহ তায়ালাও নিশ্চয়ই খুশি হবেন।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.