পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গুলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিকলীগ ও শ্রমিকদল নেতা নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী (৫৫) ও তার সহযোগী রিপন হোসেন (৫০)। তাদের বাড়ি আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামে।

আতাইকুলা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক রফিকুল ইসলাম মনা জানান, নিহত রিপন আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন।

পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার জানান, নিয়মিত সালাম হাজী পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। কিন্তু চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে ছবি পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। হাটের বর্তমান ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী, রিপন তাদের সহযোগীদের নিয়ে হাটে তাদের অফিস রুমে বসেছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন লোক মুখোশ পরা অবস্থায় এসে তাদের উপরগুলি বর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাম হাজী ও তার সহযোগী রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের প্রাথমিক তথ্য মতে হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল। তারই জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপরগুলি বর্ষণ করেছে। দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, আমরা আরো তদন্ত করছি। কারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক আনিসুল হক বাবু বলেন, নিহত রিপন দলের জন্য একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত শোকাহত। কারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সে বিষয়টি এখনো আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে আশা করি খুব শীঘ্রই তাদের খুঁজে বের করে আইনের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো। এক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে আমাদের যা যা করণীয় আমরা করবো।