পাবনা প্রতিনিধি: ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে পাবনায় আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের জেলা শাখার আহ্বায়ক মাহফুজ আলী কাদেরীর প্রায় সাড়ে সাত বিঘা জমি নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে আদালত। ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পাবনা শাখার পাওনা আদায়ে অর্থঋণ আদালতের নির্দেশে এ নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর স্থানীয় দৈনিক ‘বিবৃতি’ পত্রিকায় নিলাম দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে পাবনায় আলোচনা শুরু হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, অর্থঋণ আদালতে দায়ের করা ৯৬/২৩ ও ৯৭/২৩ নম্বর ডিক্রিজারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদালতের প্রকাশিত তফশিল অনুযায়ী, পাবনা সদর উপজেলার শালগাড়ীয়া, দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর ও দক্ষিণ রাঘবপুর মৌজায় অবস্থিত মোট ২৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ জমি নিলামে বিক্রির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয়টি তফশিলে বিভক্ত এই জমির মালিকানা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে মাহফুজ আলী কাদেরী এবং জামিনদার মোছা. নুসরাত পারভিনের নাম উল্লেখ রয়েছে। মেসার্স অনন্য ইনফোটেকের মালিক হিসেবে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগে এসব সম্পত্তি বিক্রির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংক পাবনা শাখার ব্যবস্থাপক অসিত কুমার সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় ব্যাংককে আইনের আশ্রয় নিতে হয়েছে। অর্থঋণ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে ব্যাংকের পাওনা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মাহফুজ আলী কাদেরী বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের পাবনা জেলা শাখার আহ্বায়ক এবং অনন্য সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পাবনায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলাতেও মাহফুজ আলী কাদেরী আসামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
ব্যাংকের ঋণ আদায়ে আদালতের এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। তবে নিলাম সম্পন্ন হওয়া এবং ব্যাংকের পাওনা পুরোপুরি আদায় হওয়া নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও দরপত্রের ফলাফলের ওপর।

Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.