ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপির একজন সমর্থককে ‘বিএনপি নেতা’ আখ্যা দিয়ে অপহরণ, নির্যাতন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সোহেল রানার পরিবারের দাবি, তিনি বিএনপির কোনো পদধারী নেতা নন, সোহেল রানা ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিএনপির সমর্থক। তবে, রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে মিথ্যা অপবাদে তাকে টার্গেট করে নির্যাতন চালানো হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) পাবনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত-৪ এ ভুক্তভোগীর স্ত্রী শিখা খাতুন মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, পাথরঘাটা গ্রামের মৃত ময়দান প্রামাণিকের ছেলে ও ছোট বিশাকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা (৩৬), রাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত আক্কাস আলীর ছেলে আজাদ মাস্টার (৩০), মৃত সাইদুল ইসলামের ছেলে কাজল (৩২), মৃত আজিজুল হকের ছেলে আব্দুল জলিল (৪০), মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে জুয়েল (২৮), ওহেদ আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম (৩৫), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম (২২), সেকেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৫১), তার ছেলে হাসান আলী (২৩) এবং ওসমান আলীর ছেলে রুবেল (২৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা সোহেল রানার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অপহরণ করে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভাঙ্গুড়া বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে। পরে তার চোখ-মুখ বেঁধে জোরপূর্বক পাশের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে বিএনপি নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও নির্যাতন চালানো হয়। একই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং হত্যারও চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় হামলাকারীরা তার কাছে থাকা নগদ ৩১ হাজার ৭০০ টাকা ও একটি রূপার ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে কানে মেলে ফেলার হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল রানাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মামলায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে।